অবৈধ বিয়ের মামলায় খালাস পেলেন নাসির-তামিমা
অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Wednesday, June 10, 2026 2
স্পোর্টস ডেস্ক : তালাক ছাড়া বিয়ের অভিযোগে করা মামলায় খালাস পেয়েছেন ক্রিকেটার নাসির হোসেন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মি। আজ বুধবার (১০ জুন) দুপুরে ঢাকার অ্যাডিশনাল চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম আলোচিত এ মামলার রায় ঘোষণা করেন।
এই মামলায় নাসির হোসেনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪৯৭ ও ৪৯৮ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল। দণ্ডবিধির ৪৯৭ ধারা হলো ব্যভিচার বা পরকীয়া। আর ৪৯৮ ধারা অনুযায়ী, কোনো বিবাহিত নারীকে অপরাধজনক উদ্দেশ্যে প্রলুব্ধ করা, ফুসলিয়ে নিয়ে যাওয়া বা বেআইনিভাবে আটকে রাখা দণ্ডনীয় অপরাধ। তামিমার বিরুদ্ধে ৪৯৪, ৪৬৮ ও ৪৭১ ধারায় অভিযোগ গঠন করা হয়েছিল।
মামলায় বলা হয়েছে, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও বাদী রাকিবের বিয়ে হয়। তাদের আট বছরের একটি মেয়েও রয়েছে। কিন্তু রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক চলা অবস্থাতেই ২০২০ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেন বিয়ে করেন।
২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও নাসিরের বিয়ের ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়লে তা রাকিবের নজরে আসে। এরপর ২৪ ফেব্রুয়ারি ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে রাকিব মামলা করেন। ওই বছর ৩০ সেপ্টেম্বর আদালতে তিনজনের বিরুদ্ধে প্রতিবেদন দেন তদন্ত কর্মকর্তা শেখ মিজানুর রহমান।
২০২২ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার শুরু হয়। তবে নাসিরের শাশুড়ি সুমি আক্তারকে মামলা থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়। ওই বছরের ৬ মার্চ মহানগর দায়রা জজ আদালতে নাসির ও তামিমার বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন করেন তাদের আইনজীবী কাজী নজিবুল্লাহ হিরু।
অন্যদিকে সুমি আক্তারকে অব্যাহতির আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন দায়ের করেন বাদীপক্ষের আইনজীবী ইশরাত হাসান। রাকিবের সাক্ষ্যগ্রহণের মধ্য দিয়ে এ মামলার বিচার শুরু হয়।
২০২৫ সালের ১৬ এপ্রিল মামলাটিতে সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ হয়। ১০ জনের সাক্ষ্যগ্রহণ করেন আদালত। গত ১০ মার্চ মামলাটিতে আসামিদের আত্মপক্ষ শুনানি হয়। শুনানিতে তারা নিজেদের নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার চান।
গত ৩০ মার্চ নিজের পক্ষে সাফাই সাক্ষ্য দেন তামিমা, যা ৮ এপ্রিল শেষ হয়। এরপর গত ৬ মে মামলার যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শেষে আজ এই মামলায় রায় ঘোষণা করা হলো।
