জাতীয়

অবহেলায় মায়ের মৃত্যু নিয়ে ৪ সন্তানকে আইনি নোটিশ

অনলাইন ডেস্ক, বাংলাদেশ - Wednesday, June 3, 2026 1

অনলাইন ডেস্ক : চার সন্তানের দায়িত্বহীনতা, ভরণ-পোষণে অবহেলা ও আইনি কর্তব্য পালনে ব্যর্থতায় বৃদ্ধা মা নূরজাহান বেগমের মৃত্যুর জন্য তাদের কাছে ব্যাখ্যা চেয়ে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি।

 

আজ বুধবার এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে বলে আইনজীবী ফারজানা ইয়াসমিন রাখি বলেন, নোটিশ পাওয়ার সাত দিনের মধ্যে এই বিষয়ে ব্যাখ্যা প্রদান করতে বলা হয়েছে। অন্যথায়, জনস্বার্থে এবং প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার সুরক্ষার লক্ষ্যে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষ, জাতীয় মানবাধিকার কমিশন, সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এবং উচ্চ আদালতের নজরে আনার জন্য প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

 

চার সন্তান হলেন খুলনা সমুদ্র বন্দরের যুগ্ম সচিব ড. এ কে এম আনিসুর রহমান, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) অধ্যাপক ড. এ কে এম আশিকুর রহমান, কানাডা প্রবাসী কে এম আতিকুর রহমান ও স্কুলশিক্ষিকা ফাতিমা নাসরিন সুলতানা।

লিগ্যাল নোটিশে বলা হয়, বৃদ্ধা নুরজাহান বেগমের মৃত্যু শুধু একটি পরিবারের ট্র্যাজেডি নয়। এটি জাতির বিবেক, মানবিক মূল্যবোধ এবং পারিবারিক দায়িত্ববোধের জন্য এক চরম উদ্বেগ ও ঘৃণার জন্ম দিয়েছে এবং দেশ ও দেশের বাইরে মানুষের হৃদয়ে স্পর্শ করেছে।

 

নোটিশে উল্লেখ করা হয়েছে, বিভিন্ন জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদের পরিপ্রেক্ষিতে নজরে আসে, প্রায় ৭৫ বছর বয়সী বৃদ্ধ নূরজাহান বেগম রাজধানীর মিরপুরস্থ একটি ফ্ল্যাটে দীর্ঘ সময় নিঃসঙ্গ অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন এবং তার মরদেহ প্রায় ৭ দিন পর উদ্ধার করা হয়। প্রকাশিত তথ্যে আরও প্রতীয়মান হয়, তার একাধিক প্রতিষ্ঠিত সন্তান জীবিত থাকা সত্ত্বেও মৃত বৃদ্ধা প্রয়োজনীয় তত্ত্বাবধান, খোঁজ-খবর ও মানবিক সান্নিধ্য থেকে বঞ্চিত ছিলেন। সে বিষয়ে গুরুতর প্রশ্ন উত্থাপিত হয়েছে।

 

এতে বলা হয়, ঘটনাটি কেবল একটি পরিবারের ব্যক্তিগত মর্মান্তিক বিষয় নয়; বরং এটি প্রবীণ নাগরিকদের অধিকার, পারিবারিক দায়িত্ববোধ, সামাজিক নৈতিকতা এবং আইনের শাসনের প্রশ্নে জাতীয় গভীর উদ্বেগ ও প্রশ্নের বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। বাংলাদেশের সংবিধানের ১৫, ২৭, ৩১ ও ৩২ অনুচ্ছেদে মানবিক মর্যাদা, আইনের সমান আশ্রয় ও জীবন-নিরাপত্তার যে সাংবিধানিক নিশ্চয়তা প্রদান করা হয়েছে, তার আলোকে প্রত্যেক নাগরিকের, বিশেষত অসহায়, প্রবীণ ব্যক্তির নিরাপত্তা ও মর্যাদা নিশ্চিত করা রাষ্ট্র ও পরিবারের যৌথ দায়িত্ব। অতঃপর, পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ আইন, ২০১৩-এ সন্তানদের ওপর পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ, দেখভাল, পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের আইনগত বাধ্যবাধকতা আরোপ করা হয়েছে।

 

নোটিশে বলা হয়, আইনটি সুস্পষ্টভাবে প্রতীয়মান করে, পিতা-মাতার প্রতি দায়িত্ব পালন কেবল নৈতিক কর্তব্য নয়, এটি একটি আইনগত দায়িত্বও বটে। যে মা সন্তানের জীবন গঠন করেন, সেই মা যদি জীবনের অন্তিম সময়ে নিঃসঙ্গতা, অবহেলা ও অযত্নের মধ্যে মৃত্যুবরণ করেন এবং মৃত্যুর পরও দীর্ঘ সময় তাঁর মরদেহ একটি আবদ্ধ কক্ষে অরক্ষিত অবস্থায় পড়ে থাকে, পোকা-মাকড় মায়ের মৃত দেহ কুড়ে কুড়ে খায়, তবে তা সভ্য সমাজের জন্য গভীর লজ্জা, বেদনা ও বিবেকের প্রশ্ন হয়ে দাঁড়ায়।