ই-পেপার

মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ইরানে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান

ইরানের সঙ্গে চলা সংঘাতের মধ্যেই সামরিক কার্যক্রম

আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬, ২১:৫৪
১৭ ভিউ
মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে ইরানে সামরিক অভিযান বন্ধের আহ্বান

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : ইরানের সঙ্গে চলা সংঘাতের মধ্যেই সামরিক কার্যক্রম বন্ধের একটি প্রস্তাব মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদে(হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) সামান্য ব্যবধানে পাস হয়েছে। যুদ্ধের তীব্রতা বৃদ্ধি এবং সংঘাত নিয়ে ক্রমশ অনিশ্চিত হয়ে পড়ায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি এটি ছিল দ্বিতীয়বারের মতো একটি সতর্কবার্তা।

বৃহস্পতিবার(২৩ জুলাই) যুদ্ধের জন্য কংগ্রেসের অনুমোদনের আবশ্যকতা বিষয়ক এই প্রস্তাবটি ২১৪-২০৮ ভোটে পাস হয়। একই সময়ে সিনেটেও সকালে অনুরূপ একটি প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার কথা রয়েছে। ডেমোক্র্যাটদের উদ্যোগে আনা এই ভোটগুলো মূলত প্রতীকী হলেও, এর মাধ্যমে রিপাবলিকান প্রেসিডেন্টের কাছে একটি জোরালো বার্তা পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ক্যাপিটল হিলে তার প্রতি সমর্থন কমে আসছে এবং উভয় দলের আইনপ্রণেতারাই তার প্রশাসনের চূড়ান্ত লক্ষ্য বা ‘এন্ডগেম’ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন। প্রতিনিধি পরিষদে প্রস্তাবটি উত্থাপনকারী ডেমোক্র্যাট ও ওয়াশিংটনের প্রতিনিধি প্রমিলা জয়পাল বলেন, এই যুদ্ধের ‘কোনো স্পষ্ট লক্ষ্য, কৌশল বা চূড়ান্ত গন্তব্য নেই’।

যুদ্ধ অবসানের পক্ষে ডেমোক্র্যাটদের সঙ্গে অল্প কয়েকজন রিপাবলিকান ভোট দেওয়ায় প্রস্তাবটি সামান্য ব্যবধানে পাস হয়। তবে অধিকাংশ রিপাবলিকান যুদ্ধের পক্ষেই ভোট দেন এবং যুদ্ধের বিষয়ে কংগ্রেসের ক্ষমতা ট্রাম্পের হাতে ছেড়ে দেওয়ার পক্ষে অবস্থান নেন।

ট্রাম্প জোর দিয়ে বলেছেন, ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অব্যাহত হামলার অর্থ এই নয় যে আবার যুদ্ধ শুরু হচ্ছে বা দীর্ঘমেয়াদী কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

কূটনৈতিক প্রচেষ্টায় দৃশ্যমান কোনো অগ্রগতি না থাকা সত্ত্বেও ওয়াশিংটনের বিমান হামলা অব্যাহত রয়েছে। একই সঙ্গে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ও বর্তমানে প্রায় বন্ধ থাকা হরমুজ প্রণালী নিয়ে সৃষ্ট বিরোধে উভয় পক্ষই নিজেদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। এই সংঘাতের ফলে বিশ্বজুড়ে অর্থনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির হুমকির পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে জ্বালানির দাম আবারও বেড়েছে।

স্থানীয় সময় বুধবার(২৩ জুলাই) সন্ধ্যায় প্রতিনিধি পরিষদে যখন প্রস্তাবটি নিয়ে বিতর্ক চলছিল, তখন পররাষ্ট্র বিষয়ক কমিটির চেয়ারম্যান ব্রায়ান মাস্ট (রিপাবলিকান-ফ্লোরিডা) যুদ্ধ শুরুর পর থেকে নিহত ১৮ জন সেনাসদস্যের নাম পড়ে শোনান।

মাস্ট বলেন, এই মিশনকে খাটো করে দেখার অর্থ হলো সেই সেবাকেই খাটো ও অবমূল্যায়ন করা, যার জন্য এই সদস্যরা নিজেদের জীবন উৎসর্গ করেছেন। তাদের আত্মত্যাগ অর্থহীন ছিল না। ইরান বহুবার যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের ওপর হামলা চালিয়েছে ও হত্যা করেছে; এই অভিযানের মাধ্যমে তার জবাব দেওয়া হচ্ছে।

কমিটির শীর্ষ ডেমোক্র্যাট সদস্য ও নিউইয়র্কের প্রতিনিধি গ্রেগরি মিক্স বলেন, প্রেসিডেন্টের উচিত কংগ্রেসের কাছে এ বিষয়ে যুক্তি ও ব্যাখ্যা তুলে ধরা। মিকস বলেন, যেসব সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন, তারা এমন এক ‘বেআইনি ও অননুমোদিত যুদ্ধের’ জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেছেন। যে যুদ্ধ আমেরিকান জনগণ চায় না।

এ বিষয়ে কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না তা নিয়ে কংগ্রেসের উভয় কক্ষে যখন ভোটাভুটি চলছে, ঠিক তখনই হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দুই দেশের মধ্যে সংঘাতের জেরে যুক্তরাষ্ট্র সাম্প্রতিক দিনগুলোতে একের পর এক বিমান হামলা চালিয়েছে। জ্বালানির দাম আবারও বেড়ে গেছে এবং মঙ্গলবার এক শুনানিতে প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ সিনেটরদের জানান, এই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র এখন পর্যন্ত ৩৭.৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।

স্থানীয় সময় বুধবার(২২ জুলাই) ট্রাম্প ডোভার বিমান ঘাঁটিতে সংঘাতে নিহত চার সেনা সদস্যের প্রতি সম্মান জানান। পরে বৃহস্পতিবার মেরিল্যান্ডের সিনেটর ক্রিস ভ্যান হোলেন সিনেটে দেওয়া ভাষণে বলেন, আমার মনে হয়, শুনানিগুলোর পাশাপাশি পরিস্থিতি এখন এমন এক নতুন ও উত্তেজনাকর পর্যায়ে পৌঁছেছে যেখানে আমেরিকানরা প্রাণ হারাচ্ছেন। অব্যাহত উত্তেজনার কারণে খরচের বোঝা তাদের ওপর পড়ছে। তাই সংশ্লিষ্টদের জবাবদিহিতার আওতায় আনাটা জরুরি। তিনি আরও বলেন, আর এটি অত্যন্ত অজনপ্রিয় একটি যুদ্ধ।

সূত্র: অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস।