ই-পেপার

লিবিয়ার উপকূলে নৌকাডুবি, ৬০ অভিবাসনপ্রত্যাশীর ৫০ জনই নিখোঁজ

ভূমধ্যসাগরের লিবিয়া উপকূলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী

আপডেট: ১৬ জুলাই ২০২৬, ১০:৪৫
৩২ ভিউ
লিবিয়ার উপকূলে নৌকাডুবি, ৬০ অভিবাসনপ্রত্যাশীর ৫০ জনই নিখোঁজ

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : ভূমধ্যসাগরের লিবিয়া উপকূলে অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বহনকারী একটি নৌকা ডুবে অন্তত ৫০ জন নিখোঁজ হয়েছেন। নৌকাটিতে মোট ৬০ জন যাত্রী ছিলেন। তাদের মধ্যে মাত্র ১০ জন জীবিত উদ্ধার হয়েছেন। নিখোঁজদের উদ্ধারে সমুদ্রে তল্লাশি অভিযান চালানো হলেও অনেককে এখনও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

পূর্ব লিবিয়ার উপকূলীয় শহর তোব্রুকের কাছে গত মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) রাতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। পূর্ব লিবিয়া কোস্ট গার্ডের কর্মকর্তারা জানান, ইতালির উদ্দেশে রওনা হওয়া একটি ইঞ্জিনচালিত কাঠের নৌকাটি যাত্রা শুরুর কিছুক্ষণের মধ্যেই উত্তাল সাগরে ডুবে যায়। এতে অধিকাংশ যাত্রী সাগরের স্রোতে ভেসে যান।

কোস্ট গার্ডের তথ্য অনুযায়ী, মাত্র ১০ জন যাত্রী সাঁতরে কাছের বারদা দ্বীপে পৌঁছাতে সক্ষম হন। পরে উদ্ধারকারী দল তাদের নিরাপদে উদ্ধার করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করে। তবে নিখোঁজ ৫০ জনের ভাগ্য সম্পর্কে এখনও নিশ্চিত কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে লিবিয়া থেকে ইউরোপে যাওয়ার পথে এটি আরেকটি বড় নৌকাডুবির ঘটনা। এর আগেও গত মাসে লিবিয়ার উপকূলে একটি অভিবাসীবাহী নৌকা ডুবে অন্তত ৫১ জন নিখোঁজ হন।

গত এক দশকে যুদ্ধ, দারিদ্র্য, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং উন্নত জীবনের আশায় আফ্রিকা, মধ্যপ্রাচ্য ও দক্ষিণ এশিয়ার হাজারো মানুষ লিবিয়াকে ইউরোপে যাওয়ার অন্যতম ট্রানজিট রুট হিসেবে ব্যবহার করছেন। এই সুযোগে সক্রিয় মানবপাচারকারী চক্রগুলো অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই অনিরাপদ নৌকায় করে বিপজ্জনক সমুদ্রপথে তাদের যাত্রা করায়। ফলে প্রায়ই প্রাণহানির ঘটনা ঘটছে।

জাতিসংঘের অভিবাসনবিষয়ক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল অর্গানাইজেশন ফর মাইগ্রেশন (আইওএম)-এর তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১৬ মে পর্যন্ত শুধু লিবিয়ার উপকূলেই ৮ শতাধিক অভিবাসনপ্রত্যাশী নিখোঁজ হয়েছেন। তাদের বেশিরভাগই দক্ষিণ এশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য ও উত্তর আফ্রিকার বিভিন্ন দেশের নাগরিক, যাদের চূড়ান্ত গন্তব্য ছিল ইউরোপ।

সূত্র: এএফপি, ফার্স্টপোস্ট।