স্পাইওয়্যার হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্বের ১১০টি
ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক : স্পাইওয়্যার হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ার আশঙ্কায় বিশ্বের ১১০টি দেশের ব্যবহারকারীদের সতর্কবার্তা দিয়েছে অ্যাপল। বৃহস্পতিবার (১১ আগস্ট) ব্যবহারকারীদের এ সতর্কবার্তা পাঠানো হয় বলে জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম টাইমস অব ইন্ডিয়ার এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সতর্কবার্তায় উন্নত ডিজিটাল হুমকির বিষয়ে ব্যবহারকারীদের সতর্ক করা হয়েছে। এর উদ্দেশ্য হলো- যেসব ব্যবহারকারী ব্যক্তিগতভাবে স্পাইওয়্যার হামলার লক্ষ্যবস্তু হয়ে থাকতে পারে, তাদের সতর্ক ও সহায়তা করা। এ ধরনের হামলা সাধারণ সাইবার অপরাধের তুলনায় অনেক বেশি উন্নত।
হামলাকারীরা নির্দিষ্টসংখ্যক ব্যক্তি ও তাদের ব্যবহৃত যন্ত্রকে লক্ষ্য করে বিপুল অর্থ ও সম্পদ ব্যয় করে। অ্যাপল জানিয়েছে, এ ধরনের হামলা পরিচালনায় লাখ লাখ ডলার খরচ হতে পারে। আবার এসব স্পাইওয়্যার অনেক সময় খুব বেশি সময় সক্রিয়ও থাকে না। ফলে এগুলো শনাক্ত ও প্রতিরোধ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
তবে স্বস্তির বিষয় হলো, অধিকাংশ ব্যবহারকারী জীবনে কখনও এ ধরনের হামলার মুখোমুখি হবেন না। অ্যাপলের মতে, নাগরিক সমাজের সংগঠন, সাইবার নিরাপত্তা গবেষক ও সাংবাদিকদের প্রকাশিত প্রতিবেদন এবং গবেষণায় দেখা গেছে, এ ধরনের উচ্চ ব্যয়ের ব্যক্তিকেন্দ্রিক সাইবার হামলার সঙ্গে সাধারণত রাষ্ট্রীয় পক্ষের সংশ্লিষ্টতা থাকে।
সরকারের হয়ে বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও এ ধরনের স্পাইওয়্যার তৈরি করে থাকে। এর মধ্যে এনএসও গ্রুপের বহুল পরিচিত পেগাসাস অন্যতম। সাধারণত সাংবাদিক, অধিকারকর্মী, রাজনীতিবিদ ও কূটনীতিকদের মতো অল্পসংখ্যক মানুষ এসব হামলার লক্ষ্যবস্তু হন। তবে এ ধরনের হামলা বিশ্বজুড়ে নিয়মিত ঘটছে।
অ্যাপলের সতর্কবার্তা পেলে ব্যবহারকারীদের নিজেদের অ্যাকাউন্ট ও ডিভাইসের নিরাপত্তা জোরদার করার পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এর মধ্যে ‘লকডাউন মোড’ চালু করা অন্যতম। প্রয়োজনে বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠানের সহায়তা নেয়ার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি। এ ক্ষেত্রে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান অ্যাকসেস নাও পরিচালিত ‘ডিজিটাল সিকিউরিটি হেল্পলাইন’ থেকে সার্বক্ষণিক জরুরি নিরাপত্তা সহায়তা নেয়া যেতে পারে।
সাধারণ ব্যবহারকারীদেরও কিছু নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনুসরণের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। সর্বশেষ নিরাপত্তা হালনাগাদ পেতে ডিভাইসের সফটওয়্যার নিয়মিত হালনাগাদ রাখতে হবে। পাশাপাশি পাসকোড, ফেস আইডি বা টাচ আইডি ব্যবহার করে গুরুত্বপূর্ণ ডিভাইস সুরক্ষিত রাখার পরামর্শ দেয়া হয়েছে।
অ্যাকাউন্টের জন্য শক্তিশালী ও আলাদা পাসওয়ার্ডের পাশাপাশি দ্বিস্তরীয় পরিচয় যাচাই চালু করার পরামর্শও দিয়েছে অ্যাপল। বাড়তি নিরাপত্তার জন্য ‘চুরি হওয়া যন্ত্র সুরক্ষা’ সুবিধাও চালু করা যেতে পারে। যেখানে সুবিধাটি রয়েছে, সেখানে পাসওয়ার্ডের পরিবর্তে পাসকি ব্যবহারের পরামর্শ দেয়া হয়েছে। অ্যাপল তৃতীয় পক্ষের স্টোর থেকে সরাসরি অ্যাপ ইনস্টলের অনুমতি দেয় না। তাই ব্যবহারকারীদের শুধু অ্যাপ স্টোর থেকেই অ্যাপ নামানোর পরামর্শ দিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।