ই-পেপার

ট্রাম্পের আগে ইরানের কাছে যেভাবে পরাস্ত হয়েছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টরা

ইরানের সাথে চলমান দ্বন্দ্ব এবং সমঝোতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র

আপডেট: ১০ আগস্ট ২০২৬, ১৯:৪১
৩৯ ভিউ
ট্রাম্পের আগে ইরানের কাছে যেভাবে পরাস্ত হয়েছিলেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্টরা

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : ইরানের সাথে চলমান দ্বন্দ্ব এবং সমঝোতা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের অবস্থান নতুন কিছু নয়। সম্প্রতি মার্কিন সাবেক ও বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন এখন ইরানের সাথে আলোচনা কিছুটা গুটিয়ে এনে দেশটির ওপর অর্থনৈতিক চাপ বৃদ্ধির দিকে নজর দিচ্ছে। ছয় মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা এই উত্তপ্ত পরিস্থিতিতে ট্রাম্পই প্রথম মার্কিন প্রধান নন যিনি তেহরানের সাথে এমন টানাপোড়েনের মুখোমুখি হয়েছেন। জিম্পি কার্টার থেকে শুরু করে রোনাল্ড রেগান এবং বারাক ওবামা—বিভিন্ন মেয়াদে মার্কিন প্রেসিডেন্টরা ইরানের সাথে তাদের কূটনীতি এবং সংঘাতের নীতি পরিচালনা করেছেন।

জিম্পি কার্টার ও বন্দিদশা সংকট (১৯৭৯-১৯৮১)

১৯৭৯ সালে ইরানে ইসলামী বিপ্লবের পর তেহরানে মার্কিন দূতাবাস দখল করে ৬৬ জন আমেরিকানসহ ৯০ জনকে জিম্মি করা হয়। তৎকালীন প্রেসিডেন্ট জিম্পি কার্টার শুরুতেই কূটনীতিকদের পাঠালেও ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ খোমেনি তাদের সাথে সাক্ষাত করতে অস্বীকৃতি জানান। পরবর্তীতে মার্কিন ব্যাংকগুলোতে থাকা ইরানি সম্পদ জব্দ করেন কার্টার এবং ১৯৮০ সালের এপ্রিলে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। দীর্ঘ এক বছরেরও বেশি সময় পর আলজেরিয়ার মধ্যস্থতায় ১৯৮১ সালের ১৯ জানুয়ারি চুক্তি স্বাক্ষরিত হয় এবং কার্টারের মেয়াদ শেষ হওয়ার পরপরই জিম্মিরা মুক্তি পান।

রোনাল্ড রেগান ও 'ইরান-কনট্রা' কেলেঙ্কারি

১৯৮৪ সালে প্রেসিডেন্ট রোনাল্ড রেগান ইরানকে 'সন্ত্রাসবাদের পৃষ্ঠপোষক রাষ্ট্র' হিসেবে ঘোষণা করেন। তবে পরবর্তীতে লেবাননে হিজবুল্লাহর হাতে বন্দী আমেরিকানদের মুক্ত করতে নিষেধাজ্ঞা থাকা সত্ত্বেও গোপনে ইরানের কাছে অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেন রেগান। এই অস্ত্র বিক্রির অর্থ গোপনে নিকারাগুয়ার 'কনট্রা' বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে দেওয়া হতো, যা পরবর্তীতে 'ইরান-কনট্রা' কেলেঙ্কারি নামে পরিচিতি পায়। এই ঘটনায় রেগানের সততা ও নীতি নিয়ে ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছিল।

বারাক ওবামা ও ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি (২০১৫)

বারাক ওবামা তার আমলে তেহরানের সাথে সম্পর্কের বরফ গলানোর উদ্যোগ নেন। ২০১৩ সালে তৎকালীন ইরানি প্রেসিডেন্ট হাসান রুহানির সাথে টেলিফোনে কথা বলেন ওবামা, যা ছিল ১৯৭৯ সালের পর দুই দেশের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে প্রথম সরাসরি যোগাযোগ। দীর্ঘ আলোচনার পর ২০১৫ সালে ঐতিহাসিক পারমাণবিক চুক্তি (জেসিপিওএ) স্বাক্ষরিত হয়। এতে ইরানের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ ১৫ বছরের জন্য সীমিত করা হয় এবং আন্তর্জাতিক পরিদর্শনের বিনিময়ে অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। তবে পরবর্তীতে ট্রাম্প তার প্রথম মেয়াদে এই চুক্তি থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে বের করে নেন। সূত্র: সিএনএন।