ফ্রান্সে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনকে শিক্ষা খাতের
ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি
অনলাইন ডেস্ক : ফ্রান্সে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনকে শিক্ষা খাতের সংকটের বদলে ব্যাপক অভিবাসন ও ইসলামের সঙ্গে যুক্ত করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাঁর দাবি, মুসলিমরা ফ্রান্স দখলের চেষ্টা করছে।
মঙ্গলবার (৬ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেন, ফ্রান্সে যা ঘটছে তা নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়া ব্যাপক অভিবাসনের ফল। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, এটি স্কুল নিয়ে কোনো আন্দোলন নয়; বরং ইসলাম একসময়ের মহান ফ্রান্স দখলের চেষ্টা করছে।
তবে ফ্রান্সে শিক্ষার্থীদের চলমান বিক্ষোভের মূল বিষয় শিক্ষা ব্যবস্থার সংকট। শিক্ষকস্বল্পতা, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী, জরাজীর্ণ স্কুল ভবন, দীর্ঘ সময়ের ক্লাস এবং শিক্ষাখাতে অর্থায়ন নিয়ে অসন্তোষ থেকে আন্দোলনটি শুরু হয়েছে। গত কয়েক সপ্তাহে তা দেশটির বিভিন্ন এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
মঙ্গলবারের কর্মসূচিতে ফ্রান্সজুড়ে ২৫ হাজার থেকে ৪৫ হাজার নয়, বরং প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার থেকে ৪ লাখ ৫০ হাজার মানুষ অংশ নেন বলে বিভিন্ন হিসাব পাওয়া গেছে। এতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও বিভিন্ন সংগঠনের সদস্যরা ছিলেন। দেশটির বিভিন্ন শহরে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষও হয়েছে।
শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে শ্রেণিকক্ষে শিক্ষকসংখ্যা বাড়ানো, পুরোনো স্কুল ভবন সংস্কার, অতিরিক্ত শিক্ষার্থীর চাপ কমানো এবং শিক্ষাখাতে পর্যাপ্ত অর্থায়ন নিশ্চিত করা। আন্দোলনকারীরা দীর্ঘ ক্লাসের সময় ও শিক্ষা ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন সমস্যারও সমাধান দাবি করছেন।
আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ার পর ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী সেবাস্তিয়ান লেকর্নু শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রীদের নির্দেশ দিয়েছেন। সরকার শিক্ষা খাতের অবকাঠামো ও অন্যান্য সমস্যা সমাধানে পদক্ষেপ নেওয়ার কথা জানিয়েছে।
এদিকে ট্রাম্পের বক্তব্যে ফ্রান্সের শিক্ষার্থী আন্দোলনের কারণ নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়েছে। রয়টার্সসহ বিভিন্ন প্রতিবেদনে আন্দোলনের মূল কারণ হিসেবে শিক্ষা খাতের জনবল ও অর্থায়নের ঘাটতি, শ্রেণিকক্ষে অতিরিক্ত শিক্ষার্থী এবং অবকাঠামোগত সমস্যার কথা উঠে এসেছে। তথ্যসূত্র: রয়টার্স, এপি