ই-পেপার

কংগ্রেস অনুমোদিত ৮০ কোটি ডলার আটকে দিতে চান ট্রাম্প

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন

আপডেট: ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:১৭
২৮ ভিউ
কংগ্রেস অনুমোদিত ৮০ কোটি ডলার আটকে দিতে চান ট্রাম্প

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কংগ্রেসের অনুমোদন দেওয়া ৮০ কোটি ডলারের বেশি সরকারি অর্থ ছাড় না দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। অভিবাসন, জাতিগত সংখ্যালঘুদের সহায়তা ও শিক্ষা খাতের বিভিন্ন কর্মসূচির জন্য এই অর্থ বরাদ্দ করা হয়েছিল।

শুক্রবার নেওয়া এই পদক্ষেপ যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতা নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসন ও কংগ্রেসের চলমান বিরোধকে আরো সামনে নিয়ে এসেছে। কংগ্রেসের অনুমোদন করা অর্থ প্রেসিডেন্ট একতরফাভাবে আটকে রাখতে পারেন কি না, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রে দীর্ঘদিন ধরে আইনি ও সাংবিধানিক বিতর্ক রয়েছে। হোয়াইট হাউস এক বিবৃতিতে বলেছে, আমেরিকার নাগরিকদের কোনো উপকার করে না—এমন অপচয় ও ক্ষতিকর সরকারি ব্যয় কমাতে ট্রাম্প প্রশাসন সম্ভাব্য সব উপায় ব্যবহার করবে।

হোয়াইট হাউসের বিবৃতিতে কয়েকটি কর্মসূচির কথা উল্লেখ করা হয়েছে।

এর মধ্যে রয়েছে শরণার্থীদের সহায়তা, জাতিগত সংখ্যালঘুদের ব্যবসা উন্নয়ন এবং যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে পরিবেশ সংরক্ষণে কাজ করা কিছু কর্মসূচি। ট্রাম্প প্রশাসনের দাবি, এসব কর্মসূচির কিছু অবৈধ অভিবাসনকে উৎসাহিত করে, জাতিগত উত্তেজনা বাড়ায় এবং পরিবেশ নিয়ে অতিরিক্ত আতঙ্ক তৈরির মতো নীতিকে সমর্থন করে। তবে কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থ ব্যয়ের সাংবিধানিক ক্ষমতা কংগ্রেসের হাতেই রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানে সরকারের অর্থ ব্যয়ের এই ক্ষমতাকে কংগ্রেসের ‘পাওয়ার অব দ্য পার্স’ বলা হয়।

কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থ আটকে রাখতে হোয়াইট হাউস তুলনামূলকভাবে কম ব্যবহৃত একটি পদ্ধতি ব্যবহার করছে। এর নাম ‘পকেট রিসিশন’। এই পদ্ধতিতে প্রশাসন কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়াই আগে বরাদ্দ করা অর্থ বাতিল বা আটকে দেওয়ার চেষ্টা করে। ফলে সরকারি অর্থ ব্যয়ের ক্ষেত্রে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতার সীমা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠেছে। সিনেটের অর্থ বরাদ্দ কমিটির চেয়ারম্যান সিনেটর সুসান কলিন্স এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ’ বলে মন্তব্য করেছেন।

কলিন্স ট্রাম্পেরই রিপাবলিকান পার্টির সদস্য। তিনি বলেছেন, কংগ্রেসের সাংবিধানিক অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতাকে দুর্বল করার জন্য ব্যবস্থাপনা ও বাজেট দপ্তরের এটি সর্বশেষ চেষ্টা। তিনি আরো বলেছেন, কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া বরাদ্দ করা অর্থ বাতিল বা আটকে দেওয়ার যেকোনো চেষ্টা আইনের লঙ্ঘন। এ ধরনের পদক্ষেপ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে কংগ্রেস ও আদালতের বিরোধ অবশ্য নতুন নয়। গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনকে একই পদ্ধতি ব্যবহার করে কংগ্রেসের অনুমোদিত ৪৯০ কোটি ডলারের বিদেশি সহায়তা আটকে দেওয়া থেকে বিরত রাখতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল। তবে ওই অর্থ নিয়ে আইনি লড়াই পরেও চলতে থাকে।

সর্বশেষ সিদ্ধান্তের ফলে কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থ ব্যয়ের ক্ষমতা এবং প্রেসিডেন্টের সেই অর্থ আটকে রাখার ক্ষমতা নিয়ে বিতর্ক আবারও সামনে এসেছে। ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, তারা অপচয় ও ক্ষতিকর সরকারি ব্যয় কমানোর জন্য এই পদক্ষেপ নিয়েছে। অন্যদিকে কংগ্রেসের কিছু সদস্যের মতে, কংগ্রেসের অনুমোদিত অর্থ আটকে দেওয়ার মাধ্যমে প্রেসিডেন্টের ক্ষমতা সাংবিধানিক সীমার বাইরে চলে যেতে পারে।