ই-পেপার

হুথিদের দমনে মার্কিন হামলা চাইলেন সৌদি যুবরাজ, নাকচ করলেন ট্রাম্প

ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীকে দমন করতে তাদের

আপডেট: ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ২১:৪৩
১০৫ ভিউ
হুথিদের দমনে মার্কিন হামলা চাইলেন সৌদি যুবরাজ, নাকচ করলেন ট্রাম্প

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীকে দমন করতে তাদের লক্ষ্য করে মার্কিন বিমান বাহিনীর অভিযানের জন্য প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে অনুরোধ জানিয়েছিলেন সৌদি আরবের ক্রাউন প্রিন্স ও প্রধানমন্ত্রী মোহাম্মদ বিন সালমান। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সে অনুরোধ নাকচ করে দিয়েছেন।

গত কাল বৃহস্পতিবার এই ফোনালাপ হয়েছে বলে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসকে নিশ্চিত করেছেন দুই মার্কিন কর্মকর্তা। সৌদি ‍যুবরাজের অনুরোধ প্রত্যাখ্যানের কারণ প্রসঙ্গে ওই কর্মকর্তারা বলেছেন, এখন এই সময়ে হুথিদের বিরুদ্ধে সরাসরি কোনো সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার পরিকল্পনা মার্কিন প্রশাসনের নেই।

এ ব্যাপারে আরও বিস্তারিত তথ্য জানতে হোয়াইট হাউস এবং ওয়াশিংটনের সৌদি দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করেছিল রয়টার্স, কিন্তু কোনো কর্মকর্তা এ ব্যাপারে মন্তব্য করতে রাজি হননি।

তবে এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুথি গোষ্ঠীকে লক্ষ্য করে সরাসরি সামরিক পদক্ষেপের সম্ভাবনা নাকচ করে দিলেও ইয়েমেনের সরকারি সেনাবাহিনী এবং সৌদি আরবের সঙ্গে হুথি গোষ্ঠীর সাম্প্রতিক সংঘাত নিয়ে ওয়াশিংটনের উদ্বেগ ক্রমশ বাড়ছে। সরাসরি সামরিকভাবে যুক্ত হতে না চাইলেও এ ইস্যুতে সৌদি আরবের পরোক্ষভাবে সহযোগিতা করতে চাইছে ট্রাম্প প্রশাসন।

বৃহস্পতিবার মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর কেন্দ্রীয় কমান্ডের (সেন্টকম) শীর্ষ কমান্ডার অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার নেতৃত্বে মার্কিন প্রতিরক্ষা বাহিনীর একটি প্রতিনিধি দল রিয়াদে সৌদি কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ ইস্যুতে জরুরি বৈঠকও করেছেন। বৈঠকে মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প এই মুহূর্তে ইরান এবং হরমুজ প্রণালিকে ইরানের কব্জামুক্ত করতে সর্বোচ্চ মনোযোগ দেওয়ার পক্ষপাতি। এ কারণে অন্য কোথাও সামরিক অভিযান পরিচালনার ব্যাপারটি এড়িয়ে যেতে চান তিনি।

উল্লেখ্য, সৌদি আরবের সঙ্গে ইয়েমেনের হুথি গোষ্ঠীর দ্বন্দ্ব ২০১৪ সাল থেকে। সে বছর ইয়েমেনে গৃহযুদ্ধ শুরু হয়, তারপর মাত্র এক বছরের মধ্যে ২০১৫ সালে ইরানের মদতপুষ্ট সশস্ত্র রাজনৈতিক গোষ্ঠী হুথি রাজধানী সানা দখল করে। হুথিরা রাজধানী দখলের পর ইয়েমেনের তৎকালীন প্রেসিডেন্ট মনসুর আবদ-আল হাদি সৌদিতে পালিয়ে যান। তার নেতৃত্বাধীন সরকারকে ফিরিয়ে এনে ক্ষমতায় বসাতে ওই বছর থেকেই ইয়েমেনে সামরিক অভিযান শুরু করে ইয়েমেন-সৌদি সেনাবাহিনী।

বর্তমানে ইয়েমেনের মোট ভূখণ্ডের অর্ধেক হুথি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রণে আছে, বাকি অর্ধেক নিয়ন্ত্রণ করছে সৌদি সমর্থিত প্রেসিডেন্সিয়াল কাউন্সিল সরকার। কয়েক বছর আগে প্রেসিডেন্সিয়াল সরকার আন্তর্জাতিক স্বীকৃতিও পেয়েছে।

২০২২ সালে হুথি বিদ্রোহী এবং সৌদি আরবের মাধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি হয়েছিল; কিন্তু গত জুলাই মাসে সানার বিমানবন্দরে হামলার পর থেকে ফের তিক্ত হয়ে ওঠে সৌদি-হুথি সম্পর্ক।

সূত্র : রয়টার্স