ই-পেপার

৫০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ঘোষণা ন্যাটোর

রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যসহ ১২টি দেশ

আপডেট: ০৯ জুলাই ২০২৬, ০৯:৪০
৯ ভিউ
৫০ বিলিয়ন ডলারের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি ঘোষণা ন্যাটোর

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : রাশিয়ার ক্রমবর্ধমান সামরিক হুমকি মোকাবিলায় যুক্তরাজ্যসহ ১২টি দেশ আগামী ১০ বছরে ৫০ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ৩৭ বিলিয়ন পাউন্ড) ব্যয়ে একটি নতুন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে। ‘ডিপ প্রিসিশন স্ট্রাইক’ নামে এই প্রকল্পটি বুধবার তুরস্কের রাজধানী আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো শীর্ষ সম্মেলনে আলোচনার জন্য উপস্থাপন করা হয়েছে।


আজ বুধবার ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসির এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা যায়।


যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বে নেওয়া এই উদ্যোগের লক্ষ্য ইউরোপের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা এবং ন্যাটোর দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।


স্টারমার বলেন, ‘যুক্তরাজ্যের নেতৃত্বে নেওয়া এই উদ্যোগ ইউরোপীয় মিত্রদের আরও ঘনিষ্ঠভাবে একত্র করবে এবং আগামী বহু বছর ন্যাটোকে নিরাপদ রাখতে সহায়তা করবে।’


ব্রিটিশ সরকারের তথ্যমতে, নতুন প্রজন্মের এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থা ন্যাটোর অন্যতম উন্নত অস্ত্র হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এটি প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরের লক্ষ্যবস্তুতে অত্যন্ত নির্ভুলভাবে আঘাত হানতে সক্ষম হবে। ভবিষ্যতে এর পাল্লা প্রায় ১ হাজার ২৫০ মাইল পর্যন্ত বাড়ানো হতে পারে। তবে প্রকল্পটি ২০৩০-এর দশকের আগে পুরোপুরি প্রস্তুত হওয়ার সম্ভাবনা নেই।


এ বিষয়ে ব্রিটিশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইয়েভেট কুপার বলেন, ‘বিশ্ব এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি বিপজ্জনক। তাই একটি শক্তিশালী ন্যাটোর পাশাপাশি আরও শক্তিশালী ইউরোপ গড়ে তোলাই এই পরিকল্পনার মূল উদ্দেশ্য।’


তিনি আরও বলেন, ‘নতুন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবস্থার মাধ্যমে যুক্তরাজ্য ও তার মিত্ররা শত্রুপক্ষের গুরুত্বপূর্ণ সামরিক স্থাপনা এবং সেনাবাহিনীর রসদ সরবরাহ ব্যবস্থায় নির্ভুল হামলা চালাতে পারবে। এতে সম্ভাব্য আগ্রাসন প্রতিরোধ করা সহজ হবে এবং পারস্পরিক নিরাপত্তা আরও জোরদার হবে।’


এদিকে আঙ্কারা সম্মেলনে স্টারমার রাশিয়ার সামরিক তৎপরতাকে ন্যাটোর জন্য দীর্ঘমেয়াদি হুমকি হিসেবে তুলে ধরবেন বলে জানিয়েছে ব্রিটিশ সরকার।


সরকারি তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক সময়ে রাশিয়ার যুদ্ধবিমান ন্যাটো সদস্যদের আকাশসীমার কাছাকাছি আসায় ৭০০ বারের বেশি মিত্রবাহিনীর যুদ্ধবিমান উড্ডয়ন করতে হয়েছে। এছাড়া যুক্তরাজ্যের উপকূলবর্তী জলসীমায় রুশ সামরিক তৎপরতা প্রায় ৩০ শতাংশ বেড়েছে।


তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, ন্যাটো রাশিয়ার সঙ্গে সংঘাত চায় না, তবে জোটের প্রতিটি সদস্য দেশকে রক্ষায় প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি বজায় রাখতে হবে।


এছাড়া মঙ্গলবার সম্মেলনে ভাষণ দিয়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মিত্র দেশগুলোর প্রতি দ্রুত আরও আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সরবরাহের আহ্বান জানান। তার ভাষ্য, রাশিয়ার বাড়তে থাকা হামলা ঠেকাতে ইউক্রেনের জরুরি ভিত্তিতে এসব প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা প্রয়োজন।


যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কার্যালয় জানিয়েছে, ইউক্রেন ইতোমধ্যে রাশিয়ার অভ্যন্তরে দূরপাল্লার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে তেল শোধনাগার, সামরিক ঘাঁটি এবং গুরুত্বপূর্ণ রসদ কেন্দ্রগুলোতে উল্লেখযোগ্য ক্ষতি করেছে। এসব হামলা রাশিয়ার সামরিক অভিযান পরিচালনার সক্ষমতাকে দুর্বল করেছে।


অন্যদিকে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেছেন, আঙ্কারায় অনুষ্ঠিত ন্যাটো সম্মেলনের কার্যক্রম রাশিয়া নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে। তিনি দাবি করেন, ন্যাটোর নতুন কোনো অস্ত্র বা সামরিক সহায়তাই ইউক্রেনে রাশিয়ার সামরিক অভিযান থামাতে পারবে না।


পেসকভ আরও বলেন, ‘সম্মেলনের আগে রাশিয়াকে ঘিরে অনেক বক্তব্য শোনা গেছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সেগুলো সংলাপ বা গঠনমূলক সম্পর্কের আহ্বান নয়, বরং মুখোমুখি অবস্থানকে আরও উসকে দেয়।’


তবে তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, ইউক্রেন সংঘাতের রাজনৈতিক ও কূটনৈতিক সমাধানই এখনো রাশিয়ার কাছে সবচেয়ে গ্রহণযোগ্য পথ।