ই-পেপার

বিক্ষোভের মুখে কড়া নিরাপত্তায় সংসদ ছাড়লেন মোদি

ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে

আপডেট: ২০ জুলাই ২০২৬, ২২:১২
৩৯ ভিউ
বিক্ষোভের মুখে কড়া নিরাপত্তায় সংসদ ছাড়লেন মোদি

ছবি সংগৃহীত: ফাইল ছবি

অনলাইন ডেস্ক : ভারতের রাজধানী দিল্লিতে ‘সংসদ চলো’ কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুলিশের সঙ্গে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) দফায় দফায় সংঘর্ষে রণক্ষেত্র সংসদ ভবন এলাকা। আর সংসদের ভেতরে চলছিল অধিবেশন। সেখানে উপস্থিত ছিলেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী। তখন বাইরেহাজার হাজার বিক্ষোভকারী সংসদ ভবনের মূল ফটকের বাইরে তীব্র বিক্ষোভে ফেটে পড়েন। এর কিছুক্ষণ পরেই কড়া নিরাপত্তা বলয়ের মধ্যে প্রধানমন্ত্রীর কনভয় বা গাড়িবহর সংসদ ভবন থেকে বেরিয়ে যেতে দেখা যায়।

আজ সোমবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানা যায়। এতে বলা হয়, আজ সকাল থেকেই সংসদ চত্বরের আশপাশে কড়া নিরাপত্তা ব্যবস্থা ছিল। একাধিক জায়গায় ব্যারিকেড বসানো হয়। অভিযোগ, সেই ব্যারিকেড সরিয়ে এগোনোর চেষ্টা করেন বিক্ষোভকারীরা। এরপরই শুরু হয় ধস্তাধস্তি। ঘটনায় কয়েক জন বিক্ষোভকারী ও পুলিশকর্মী সামান্য আহত হয়েছেন বলে জানা গেছে। সংসদ ভবনের দিকে মিছিল এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা হলে পুলিশের সঙ্গে প্রথম দফার সংঘর্ষ বাধে।

এর পরেই আন্দোলনের আগুন ছড়িয়ে পড়ে কনট প্লেস, শাস্ত্রীয় ভবন, রেল ভবন, কনস্টিটিউশন ক্লাব এবং রিজার্ভ ব্যাংক অফ ইন্ডিয়ার সামনের এলাকায়। প্রতিটি পয়েন্টেই পুলিশ ও আধা সেনাকে কাঁদানে গ্যাস ব্যবহার করতে দেখা যায়। রেল ভবনের সামনে দীর্ঘক্ষণ উত্তেজনা চলতে থাকে। পুলিশ বারবার বিক্ষোভকারীদের সরে যাওয়ার আবেদন জানায়। কিন্তু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে গেলে কাঁদানে গ্যাস ছোড়া হয়। পরে অতিরিক্ত বাহিনী মোতায়েন করে সংসদের দিকে মিছিলের গতি আটকে দেওয়া হয়।

এতে আরও বলা হয়েছে, নিরাপত্তার স্বার্থে সংসদের দক্ষিণ দিকের যানবাহন প্রবেশপথ বন্ধ রাখা হয়। এর জেরে মধ্য দিল্লির একাধিক রাস্তায় যানজট তৈরি হয়। সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে পাঁচটি মেট্রো স্টেশনের প্রবেশপথও সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়। মাণ্ডি হাউস-সহ কয়েকটি স্টেশনের ভেতরে ও বাইরে বিক্ষোভকারীদের স্লোগান দিতেও দেখা যায়।

মেট্রো কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জনপথ, রাজীব চক, পটেল চক, সেন্ট্রাল সেক্রেটারিয়েট এবং সেবাতীর্থ স্টেশনে বিশেষ বিধিনিষেধ জারি করা হয়েছে। নিরাপত্তা সংক্রান্ত কারণে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলে জানানো হয়েছে। শহরের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ বাহিনীও মোতায়েন করা হয়েছে।

দিল্লি পুলিশের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, সংসদ ভবন এবং তার আশপাশের এলাকায় বিশেষ সতর্কতা বজায় রাখা হচ্ছে। যন্তর মন্তর, সংসদ চত্বর এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ সরকারি ভবনের নিরাপত্তায় বিপুল সংখ্যক পুলিশকর্মী ও র‌্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স মোতায়েন রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, এই কর্মসূচির জন্য আনুষ্ঠানিক অনুমতি নেওয়া হয়নি।

প্রশাসনের তরফে আরও জানানো হয়েছে, সংসদ ভবনের আশপাশে বর্তমানে ১৬৩ ধারা বলবৎ রয়েছে। ফলে নির্দিষ্ট সংখ্যার বেশি মানুষের জমায়েতের উপর নিষেধাজ্ঞা জারি আছে। অনুমতি ছাড়া কোনো মিছিল বা সমাবেশ করার সুযোগ নেই বলেও স্পষ্ট করেছে পুলিশ। নিয়ম ভঙ্গের ঘটনা ঘটলে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে আন্দোলনকারীদের দাবি, তারা কর্মসূচির বিষয়ে পুলিশকে আগেই জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, প্রশাসন এই কর্মসূচি বন্ধ করার চেষ্টা করছে। যদিও অনুমতি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে স্পষ্ট মতপার্থক্য দেখা গিয়েছে। বিক্ষোভস্থলের আশপাশে মোবাইল ও ইন্টারনেট পরিষেবায় সমস্যা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন আন্দোলনকারীরা। যদিও এই বিষয়ে প্রশাসনের তরফে কোনও নিশ্চিত বক্তব্য মেলেনি।

এদিকে শেষ পাওয়া খবর অনুযায়ী কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী জে পি নাড্ডার কাছে হলফনামা জমা দিয়েছেন ককরোচ জনতা পার্টির প্রতিনিধিরা।

আলোচনায় রাজি হওয়ায় সোনাম ওয়াংচুক অভিজিৎ দীপকেকে অনুরোধ করেছেন তার অনশন ভঙ্গ করার জন্য। সোনাম ওয়াংচুককে ধর্ণাস্থল থেকে হাসপাতালে স্থানান্তর করার পর থেকেই অনশনে বসেছিলেন অভিজিৎ দীপকে। যদিও সোনাম ওয়াংচুকের অনশন এখনও চলছে বলেই জানিয়েছেন তার স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো।

প্রতিবাদ মঞ্চ থেকে গীতাঞ্জলি আংমো বলেন, ‘এই সরকার জনবিরোধী, এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চলবে।’

সম্প্রতি ভারতের চিকিৎসাক্ষেত্রে ভর্তির পরীক্ষা নিট-এর প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ায় সারাদেশ থেকে ২১ জন ছাত্রছাত্রীর আত্মহত্যার খবর মিলেছে। ফলে কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের ইস্তফা চেয়ে আন্দোলন শুরু করে ককরোচ জনতা পার্টি। তাদের সমর্থন দিয়ে অনশনে বসেন শিক্ষকর্মী ও পরিবেশ বিষয়ক আন্দোলনকারী সোনাম ওয়াংচুক।