অনলাইন ডেস্ক : ইউক্রেন যুদ্ধের পেছনে যেসব ‘মূল কারণ’ রয়েছে বলে মস্কো মনে করে, সেগুলোর মীমাংসা ছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব রাশিয়া মেনে নিতে পারে না বলে উল্লেখ করেছেন দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই রিয়াবকভ। রাশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আন্তর্জাতিক বিষয়াবলিসংক্রান্ত সাময়িকীতে মঙ্গলবার তাঁর দেওয়া একটি সাক্ষাৎকারের অংশবিশেষ প্রকাশিত হয়েছে। সেখানে রিয়াবকভের এই অভিমত উঠে এসেছে।
রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাবিত মডেল ও সমাধানগুলো আমরা খুব গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছি; কিন্তু বর্তমানে সেগুলো যেভাবে আছে, সেভাবে আমরা মেনে নিতে পারি না।’
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত জানুয়ারিতে ক্ষমতায় বসার পর থেকেই তিন বছরের বেশি সময় ধরে চলা রাশিয়া–ইউক্রেন যুদ্ধ দ্রুত বন্ধ করার চেষ্টা করছেন। তবে রাশিয়া ও ইউক্রেনের সঙ্গে প্রতিনিধিদলের সমঝোতা আলোচনায় এখনো উল্লেখযোগ্য কোনো অগ্রগতি হয়নি।
গত মাসে যুক্তরাষ্ট্র ও ইউক্রেনের মধ্যে আলোচনায় ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির একটি প্রস্তাবে মতৈক্য হয়। তবে তা নাকচ করেন রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এই শান্তি প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির দায়িত্ব থেকে সরে দাঁড়ানো উচিত বলে অভিমত দিয়েছেন তিনি।
গত রোববার ট্রাম্প এনবিসি নিউজকে বলেন, পুতিন সমঝোতা আলোচনায় জেলেনস্কির গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তোলায় এবং ইউক্রেনে নতুন নেতৃত্বের আহ্বান জানানোয় তিনি রুশ প্রেসিডেন্টের ওপর ‘রেগে আছেন’। পরবর্তী সময়ে ট্রাম্প সাংবাদিকদের আরও বলেছেন, রাশিয়ার নেতা একটি শান্তিচুক্তির জন্য তাঁর দিকের করণীয়টা করবেন বলে তিনি প্রত্যাশা করছেন।
এর পরদিন সোমবার ক্রেমলিন বলেছে, প্রেসিডেন্ট পুতিন এখনো মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনায় রাজি আছেন।
তবে রাশিয়ার উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী রিয়াবকভ সতর্ক করেছেন, ৩০ দিনের যুদ্ধবিরতির পরে এই যুদ্ধের সমাপ্তি টানার জন্য ট্রাম্প বা ইউক্রেন কারও পক্ষ থেকে কোনো ইঙ্গিত দেখতে পাচ্ছে না মস্কো। তিনি বলেছেন, ‘এতে (যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে) আজকে আমাদের প্রধান চাওয়াগুলো স্থানই পায়নি। এই সংঘাতের মূল কারণগুলো সম্পর্কিত সমস্যাগুলোর নিরসনে এ বিষয়গুলো জরুরি।’
রাশিয়ার কর্মকর্তারা বারবার এই যুদ্ধের ‘মূল কারণগুলো’ শব্দগুলো ব্যবহার করছেন। এ বিষয়ে গত বছরের জুনে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনকে ন্যাটোর সদস্যপদ পাওয়ার আকাঙ্ক্ষা ত্যাগ করতে হবে। সেই সঙ্গে ইউক্রেনের কিছু অঞ্চল থেকে দেশটির বাহিনীকে প্রত্যাহার করতে হবে।
২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে ‘বিশেষ সামরিক অভিযান’ শুরু করে রাশিয়া। তখন থেকে দুই দেশের মধ্য প্রাণক্ষয়ী এই যুদ্ধ চলছে। এর আগে ২০১৪ সালে ইউক্রেনের ক্রিমিয়া উপদ্বীপ দখল করে নিয়েছিল রাশিয়া।
ইউক্রেনকে ৩৫০ কোটি ইউরো দিল ইইউ
জার্মান সম্প্রচারমাধ্যম ডয়চে ভেলে বাংলার এক খবরে বলা হয়েছে, ইউক্রেনকে ৩৫০ কোটি ইউরো দিয়েছে ইউরোপীয় কমিশন। ইউক্রেনের অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ৩১০ কোটি ইউরো হলো সহজ শর্তে ঋণ এবং ৪০০ ইউরো অনুদান।
এই সাহায্য হলো ইইউর ইউক্রেন ফ্যাসিলিটি প্রোগ্রামের অংশ। ২০২৭ সাল পর্যন্ত ইইউ পাঁচ হাজার ইউরো সাহায্য দেবে ইউক্রেনকে।
এখনো পর্যন্ত কিয়েভ ১ হাজার ৬০০ কোটি ইউরো পেয়েছে। এই অর্থ দিয়ে রাশিয়ার আগ্রাসন থেকে তারা নিজেদের রক্ষা করবে।
সুইজারল্যান্ডে রাশিয়ার ৮০০ কোটি ডলার অবরুদ্ধ
এদিকে সুইজারল্যান্ডে রাশিয়ার ৮০০ কোটি ডলারেরও বেশি সম্পদ অবরুদ্ধ হয়ে আছে। ২০২২ সালের ইউক্রেনে হামলার পর মস্কোর সম্পদ অবরুদ্ধ করা শুরু হয়।
গতকাল মঙ্গলবার সুইস সরকার জানিয়েছে, চলতি বছরের ৩১ মার্চ পর্যন্ত সেই সম্পদের পরিমাণ ৮৪০ কোটি ডলারে দাঁড়িয়েছে। এক বছরে আরও ১৮০ কোটি ডলারের সম্পদ চিহ্নিত করে অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
যেসব সম্পদ অবরুদ্ধ করা হয়েছে তার মধ্যে আছে রিয়েল এস্টেট, বিলাসবহুল গাড়ি ও শিল্পদ্রব্য।
সুইজারল্যান্ড ইউরোপীয় ইউনিয়নের সদস্যদেশ নয়। তা সত্ত্বেও তারা রাশিয়ার বিরুদ্ধে ইইউর নিষেধাজ্ঞা পুরোপুরি সমর্থন করে।