অনলাইন ডেস্ক : এপ্রিলেই কানাডায় অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আগাম নির্বাচন। তার আগে ফের একবার দেশটির নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি করলো কানাডার গুপ্তচর সংস্থা।

তাদের সন্দেহের তালিকায় রয়েছে ভারত, চীন, পাকিস্তান এবং রাশিয়া। কানাডার আসন্ন নির্বাচনে বেশ কিছু দেশ প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করতে পারে বলে মনে করছে সে দেশের গুপ্তচর সংস্থা।

কানাডার গুপ্তচর সংস্থা কানাডিয়ান সিকিয়োরিটি ইন্টেলিজেন্স সার্ভিসের (সিএসআইএস) দাবি, আগামী মাসে অনুষ্ঠিতব্য নির্বাচনে ভারত এবং চীন নাক গলানোর চেষ্টা করতে পারে বলে সন্দেহ করছে তারা।

সংবাদ সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, ভারত এবং চীনের পাশাপাশি রাশিয়া এবং পাকিস্তানেরও হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে বলে দাবি সিএসআইএসের।

বস্তুত, বর্তমানে ভারত এবং চীন উভয় দেশের সঙ্গেই কানাডার কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপড়েন শুরু হয়েছে। আগামী ২৮ এপ্রিল কানাডায় নির্বাচন। তার আগে সে দেশের গুপ্তচর সংস্থার এমন দাবি দুই এশীয় দেশের সঙ্গে কানাডার কূটনৈতিক টানাপোড়েন আরো বৃদ্ধি করতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।

যদিও কানাডার এমন দাবি নতুন নয়। এর আগেও ভারত এবং চীনের বিরুদ্ধে এমন অভিযোগ তুলেছিল তারা। কানাডার এই ধরনের অভিযোগকে অতীতে ভিত্তিহীন বলে খারিজ করে দিয়েছে ভারত।

ঘটনাচক্রে বর্তমানে কানাডায় ভারত বিরোধী এবং খলিস্তানপন্থীদের কার্যকলাপ নিয়ে একাধিকবার উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নয়াদিল্লি।

অন্য দিকে খলিস্তানি জঙ্গি নেতা হরদীপ সিংহ নিজ্জরের হত্যায় ভারতের হাত থাকতে পারে বলে দাবি করেছিল কানাডা। সেই অভিযোগও অস্বীকার করেছে নয়াদিল্লি।

পর পর এই ঘটনাগুলি থেকে দু’দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে টানাপোড়েন সৃষ্টি হয়েছে। এরই মধ্যে কানাডার নির্বাচনের আগে ফের সে দেশের ভোটে ভারতের হস্তক্ষেপের সন্দেহ প্রকাশ করল কানাডার গুপ্তচর সংস্থা।

সিএসআইএস-এর ডেপুটি ডিরেক্টর অফ অপারেশন্‌স ভেনেসা লয়েডের বক্তব্য, ‘বিরোধী রাষ্ট্রগুলি’ সে দেশের নির্বাচনে হস্তক্ষেপের জন্য কৃত্রিম মেধার ব্যবহার ক্রমশ বৃদ্ধি করছে।

তার মতে, কৃত্রিম মেধা ব্যবহার করে কানাডার আসন্ন নির্বাচনের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার সবচেয়ে বেশি সম্ভাবনা রয়েছে চীনের।

রয়টার্সের প্রতিবেদনে সিএসআইএসের ওই কর্মকর্তার উদৃতি দিয়ে বলেছে, কানাডার বিভিন্ন গোষ্ঠী এবং গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করার মতো অভিপ্রায় এবং ক্ষমতা ভারতেরও রয়েছে বলে আমাদের নজরে এসেছে। একই সঙ্গে পাকিস্তান এবং রাশিয়ারও হস্তক্ষেপের সম্ভাবনা রয়েছে বলে মনে করছে কানাডার গুপ্তচর সংস্থা।

জাস্টিন ট্রুডো কানাডার প্রধানমন্ত্রী থাকাকালীনও সে দেশের নির্বাচন প্রসঙ্গে নয়াদিল্লির বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ তুলেছিল অটোয়া। গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে কানাডার ওই অভিযোগের পর ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়েে মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল কড়া প্রতিবাদ জানিয়েছিলেন।

তিনি বলেছিলেন, কানাডার নির্বাচনে ভারতীয় হস্তক্ষেপের ভিত্তিহীন অভিযোগ আমরা অস্বীকার করছি। অন্য দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করা ভারতের নীতি নয়। বরং কানাডাই আমাদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে নাক গলিয়ে আসছে।