অনলাইন ডেস্ক : কানাডিয়ান সিকিউরিটি ইন্টেলিজেন্স সার্ভিস (সিএসআইএস) চীনা সরকারের বিদেশী হস্তক্ষেপ কার্যক্রমকে “জাতীয় নিরাপত্তার জন্য সবচেয়ে বড় কৌশলগত হুমকি” বলে অভিহিত করছে। গত ১৭ মার্চ, শুক্রবার সিবিসি/রেডিও-কানাডাকে ফরাসি ভাষায় দেওয়া এক বিবৃতিতে, সিএসআইএসের একজন মুখপাত্র বলেছেন, এই হুমকি ‘চীনা জনগণের’ থেকে নয়, বরং চীনা কমিউনিস্ট পার্টি (সিসিপি) থেকে এসেছে। এটি অর্থনৈতিক, প্রযুক্তিগত, রাজনৈতিক এবং সামরিক ফ্রন্টে তার ‘ভ‚-রাজনৈতিক লাভের’ লক্ষ্যে একটি কৌশল স্থাপন করছে।
এ লক্ষ্যে, এটি দেশের জাতীয় নিরাপত্তা এবং সার্বভৌমত্বকে সরাসরি হুমকির মুখে ফেলে এমন কার্যক্রম চালানোর জন্য সমস্ত রাষ্ট্রীয় ক্ষমতা ব্যবহার করছে, বলেছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই মুখপাত্র।
গোয়েন্দা সার্ভিস বলেছে যে, তারা বিদেশী হস্তক্ষেপকে খুব গুরুত্ব সহকারে নেয় এবং সমস্ত উপলব্ধ আইনি সরঞ্জাম ব্যবহার করে হুমকির তদন্ত করে, ফেডারেল সরকারকে পরামর্শ দেয় এবং হুমকি কমানোর ব্যবস্থা নেয়।
শুক্রবার গ্লোব অ্যান্ড মেইলে প্রকাশিত একটি মতামতের অংশে একজন বেনামী জাতীয় নিরাপত্তা কর্মকর্তা লিখেছেন, তারা বিশ্বাস করেন না যে বিদেশী হস্তক্ষেপ আমাদের ফেডারেল সরকারের বর্তমান গঠনকে নির্দেশ করেছে। ওই কর্মকর্তা চীনের কথিত নির্বাচনী হস্তক্ষেপ সম্পর্কে প্রকাশনার সাথে তথ্য শেয়ার করেছেন।
তবুও, একটি অবাধ ও ন্যায্য রাজনৈতিক প্রক্রিয়া ভোগ করার আমাদের সক্ষমতার উপর বিদেশী হস্তক্ষেপের ক্রমবর্ধমান প্রভাব অনস্বীকার্য, বলেছেন তারা। স¤প্রতি সময়ে একটি গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে আসা কিছু তথ্য কানাডার প্রধানমন্ত্রী জাস্টিন ট্রুডো ও তার সরকারকে কিছুটা অস্বস্তিতে ফেলেছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০১৯ ও ২০২১ সালের নির্বাচনে ট্রুডোর পক্ষে হস্তক্ষেপ করেছিল চীন। বিবৃতিতে সিএসআইএস মুখপাত্র বলেছেন, বিদেশী রাষ্ট্র কর্তৃক স্পনসর করা সংস্থাগুলো কানাডার গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে হস্তক্ষেপ করার জন্য প্রচারাভিযান চালিয়ে যাচ্ছে এবং এই প্রচারগুলো ক্রমবর্ধমান ঘন ঘন এবং পরিশীলিত।
সিএসআইএস আরও বলেছে, তারা গণপ্রজাতন্ত্রী চীন (পিআরসি) এবং রাশিয়াকে বিদেশী রাষ্ট্র হিসাবে চিহ্নিত করেছে, যারা তাদের নিজস্ব সুবিধার জন্য সিদ্ধান্ত, ঘটনা এবং নির্বাচন প্রভাবিত করার চেষ্টা করে। রাজনীতির ক্ষেত্রে তারা বিভিন্ন স¤প্রদায়ের উপর চাপ, গোপন অর্থায়ন বা বিদেশী ভাষার গণমাধ্যমকে শোষণের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, মুখপাত্র বলেছেন।
কানাডায় ক্রমবর্ধমান চীনা প্রভাবকে স্বীকার করেছেন ট্রæডো। তবে নির্বাচনে চীনা হস্তক্ষেপের বিষয়টি মানতে নারাজ তিনি। অন্য দিকে কানাডার অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে সম্পৃক্ততার অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছে অটোয়ায় চীনের দূতাবাস। একইসঙ্গে নির্বাচনে হস্তক্ষেপ সংক্রান্ত কানাডিয়ান মিডিয়ার প্রতিবেদনগুলোতে উঠে আসা গোয়েন্দা নথিগুলোকেও ‘মিথ্যা’ হিসাবে উল্লেখ করেছে দেশটি।
এ ছাড়া এসব প্রতিবেদনের মাধ্যমে বেইজিংয়ের নামে কালিমা লেপনের চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও দাবি করেছে চীন। ভ্যাঙ্কুভারে অবস্থিত চীনা কনস্যুলেট জেনারেলের অফিস থেকে একটি বিবৃতিতে ‘চীনকে অপমানিত ও অসম্মান করার’ দায়ে কানাডিয়ান মিডিয়াকে অভিযুক্ত করা হয়েছে। একইসঙ্গে বিবৃতিতে ‘তীব্র অসন্তোষ’ও প্রকাশ করেছে চীন।
মূলত দ্য গ্লোব অ্যান্ড মেইল পত্রিকার একটি প্রতিবেদনের পর চীন ওই বিবৃতিটি দেয়। গোপনীয় গোয়েন্দা নথির উদ্ধৃতি দিয়ে ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২১ সালের কানাডার ফেডারেল নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেছে বেইজিং।
চীনা কনস্যুলেট জেনারেলের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, কর্তৃপক্ষ ‘বিভিন্ন সময়ই এটা স্পষ্ট করেছে যে- চীন সবসময় অন্য দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ না করার নীতি মেনে চলে এবং কানাডার কোনও নির্বাচনে কখনও হস্তক্ষেপ করেনি।’ এতে আরও বলা হয়েছে, এই ধরনের অভিযোগ ‘দুই দেশের জনগণের বন্ধুত্ব ও স্বার্থকে ক্ষতিগ্রস্ত করবে।’
বিবৃতিতে পারস্পরিক বোঝাপড়ার উন্নতির জন্য ‘সংশ্লিষ্ট মিডিয়াকে পেশাদার নৈতিকতা মেনে চলতে, অবিলম্বে চীন ও কনস্যুলেট জেনারেলকে অযথা কোনও অভিযোগে দায়ী করা ও আক্রমণ করা বন্ধ করতে এবং আরও ভালো কাজ করতে’ আহŸান জানানো হয়েছে।