অনলাইন ডেস্ক : যুক্তরাষ্ট্র সরকারের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে শুল্ক ইস্যু সমাধানে ইতিবাচক অগ্রগতি হবে বলে দৃঢ় আশা প্রকাশ করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস।

আজ বৃহস্পতিবার ব্যাংককে প্রধান উপদেষ্টার বরাত দিয়ে তার প্রেস সচিব শফিকুল আলম এ কথা বলেন।

যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশি পণ্য আমদানির ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের বিষয়ে শফিকুল আলম বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের তরফ থেকে কথাবার্তা শুরু হয়েছে। আমরা এটা যাচাই-বাছাই করছি। সে অনুযায়ী আমরা এমন মুভগুলো নিচ্ছি, যার কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সর্ম্পক সামনে আরও দৃঢ় হবে।’

তিনি আরও বলেন, ‘তাদের সঙ্গে আমাদের কথাবার্তার এমন একটি সমাধানে যাব, যেটা দুই পক্ষের জন্যই লাভজনক হয়। যুক্তরাষ্ট্রের জন্য লাভজনক হয়, আমাদের জন্যও লাভজনক হয়। আমরা স্ট্যাডি করছি, কারণ এটি আলোচনা সাপেক্ষ।’

প্রেস সচিব বলেন, ‘আমরা আলোচনা করব। আমরা নিশ্চিত একটি ভালো ড্রাফট আউট বের করতে পারব। এটা আরও সামনে একটা কাঠামো দাড়াবে। তারপর আমরা তাদের সঙ্গে কথা বলব। কিন্তু আমরা তাদের সংর্স্পশে আছি। যা হবে তা দুই পক্ষের জন্যই লাভজনক হবে।’

তিনি বলেন, ‘এখনো পুরো বিষয়টি আলোচনা শুরুর পর্যায়ে রয়েছে। আমরা এটা পর্যালোচনা করছি এবং আমরা যেসব পদক্ষেপ গ্রহণ করছি, তাতে আশাবাদী সামনের দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় হবে। আমরা এমন একটা সমাধানের দিকে যেতে পারব, যাতে উভয় পক্ষের জন্য উইন উইন সিচুয়েশন হয়।’

আজ সকালে শফিকুল আলম বাংলাদেশি পণ্যের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কহার বাড়ানোর বিষয়ে তার ভেরিফাইড ফেসবুক পেজে লিখেন, বাংলাদেশ যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা পণ্যের ওপর আরোপিত শুল্ক পর্যালোচনা করছে। এসব শুল্ক আরও যুক্তিসংগত করার উপায় খুঁজে বের করতে দ্রুত ও কার্যকরভাবে কাজ করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর), যা শুল্কবিষয়ক জটিলতা নিরসনে প্রয়োজন।

প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ও আমাদের বৃহত্তম রপ্তানি গন্তব্য। ট্রাম্প প্রশাসন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে আমরা দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সহযোগিতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে একসঙ্গে কাজ করে আসছি।’

শফিকুল আলম বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের চলমান কার্যক্রম শুল্ক সমস্যা সমাধানে সহায়তা করবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।’

সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন ‘রিসিপ্রোকাল ট্যারিফ’ নীতির অংশ হিসেবে বাংলাদেশ থেকে আমদানিকৃত পণ্যের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।