অনলাইন ডেস্ক : সিরিয়ার হোমস শহরে সামরিক একাডেমিতে ড্রোন হামলায় নিহত হয়েছেন শতাধিক মানুষ। বৃহস্পতিবার (৫ অক্টোবর) বিকেলে চালানো এই হামলায় আহত হয়েছেন ২৪০ জনের বেশি। এমনটি জানিয়েছে যুদ্ধ পর্যবেক্ষক ও দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় কর্তৃপক্ষ। এই হামলায় গভীর উদ্বেগ ও ক্ষোভ জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তনিও গুতেরেস।
দেশটির মানবাধিকার পর্যবেক্ষক সংস্থা দ্য সিরিয়ান অবসারভেটরি ফর হিউম্যান রাইটসের বরাতে সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বিস্ফোরকভর্তি ড্রোন দিয়ে হামলার সময় ওই সামরিক একাডেমিতে ক্যাডেটদের গ্র্যাজুয়েশন অনুষ্ঠান শেষ পর্যায়ে ছিল। এ আয়োজনে ক্যাডেট ও তাদের পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। তাই নিহতদের মধ্যে অনেক নারী ও শিশু রয়েছে।
হামলার জন্যে অজ্ঞাত আন্তর্জাতিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর মদদপুষ্ট জঙ্গিদের দায়ী করছে সেনাবাহিনী।
আল জাজিরার জেইনা খোদর, যিনি সিরিয়াবিষয়ে ব্যাপকভাবে প্রতিবেদন করেছেন, জানিয়েছেন, এই হামলাটি দুর্বল নিরাপত্তা ব্যবস্থাকেই জনগণের সামনে তুলে ধরেছে। এটি সিরিয়ার সরকারের ওপরও বড় একটি আঘাত বলে মনে করা হচ্ছে। কয়েক বছর হয়ে গেছে সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের বাহিনীর সরকার নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের কেন্দ্রস্থলে এমন একটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানা হয়েছে। এটা মনে করা হচ্ছে যে সিরিয়ার সরকার দোষারোপ করছে বিরোধীদের। কারণ এই হামলার কিছুক্ষণ পরেই, সামরিক বিমানগুলো দেশের উত্তর-পশ্চিমে বিরোধী-নিয়ন্ত্রিত ছিটমহলের আবাসিক এলাকাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করে হামলা শুরু করেছে।
সিরিয়ার স্বেচ্ছাসেবক জরুরি উদ্ধারকারী দল জানিয়েছে, সম্প্রতি উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় ইদলিব প্রদেশে হামলায় একজন নারী ও শিশুসহ অন্তত ছয়জন নিহত এবং ৪০ জন আহত হয়েছে।